নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষিকার বাবার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাড়িতে যায়। কিন্তু সেদিন শিক্ষিকাকে ঘরে না পেয়ে তার বাবা তাকে ঘরে ডেকে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ৫০০ টাকা দিয়ে চুপ থাকার প্রলোভন দেখায়।
বাড়িতে ফিরে কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে ধরে পিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তবে এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
কসমিক ডেস্ক