প্রতিদিন আবহাওয়া অধিদপ্তর সম্ভাব্য বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ বা বন্যার আগাম সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এসব পূর্বাভাসের মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এ ধরনের পূর্বাভাস কি গায়েবের জ্ঞান দাবি করার শামিল? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েবের পূর্ণ জ্ঞান রাখে না। আবার কিয়ামতের সময়, বৃষ্টি, মাতৃগর্ভের বিষয়, আগামীকালের উপার্জন ও মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। এ থেকে ইসলামের মৌলিক আকিদা স্পষ্ট হয় যে, ভবিষ্যতের নিশ্চিত ও পরিপূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহরই।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর কখনোই শতভাগ নিশ্চিতভাবে কোনো ঘটনার ঘোষণা দেয় না। তারা স্যাটেলাইট, রাডার, বায়ুচাপ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতিবেগ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পূর্বাভাস প্রকাশ করে। ফলে এটি গায়েবের দাবি নয়; বরং পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ভিত্তিতে সম্ভাবনার মূল্যায়ন।
ইসলাম মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করেছে। কোরআনে আসমান-জমিনের সৃষ্টি, দিন-রাতের পরিবর্তন এবং প্রকৃতির বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ নয়।
আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি বা বজ্রপাতের আগাম তথ্য পেয়ে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, কৃষক ফসল রক্ষা করতে পারেন এবং জেলেরা সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। ইসলামে মানুষের জীবন রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসলাম জ্যোতিষ, গণক বা অলৌকিক উপায়ে ভবিষ্যৎ জানার দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) গণকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তাই বৈজ্ঞানিক আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং গায়েব জানার দাবি—এ দুটি বিষয় এক নয়।
ইসলামি দৃষ্টিতে একজন মুসলিমের করণীয় হলো, আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে সম্ভাব্য সতর্কবার্তা হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা। কারণ সব কিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার হাতেই।
কসমিক ডেস্ক