মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও লেবাননকে ঘিরে। দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, লেবাননে চলমান হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাদের মতে, পূর্ববর্তী সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানো। কিন্তু বাস্তবে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। ফলে প্রণালি বন্ধের যেকোনো ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজার ও কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ঘোষণার পর এবং আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দক্ষিণ লেবাননে নতুন আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz সামরিক বাহিনীকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। তবে ইতোমধ্যে দখলে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংঘাতের এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজে বের করা।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের একটি ইরানি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। প্রতিনিধিদলে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে হরমুজ প্রণালি বাস্তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। ইরান বন্ধের ঘোষণা দিলেও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি ও ঘোষণার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনের আলোচনার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে। সুইজারল্যান্ডের বৈঠক এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক