প্রতিষ্ঠার প্রায় নয় বছর পার হলেও এখনো নিজস্ব ভবন পায়নি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ভাড়া করা দুটি পৃথক ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বোর্ডটি। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ নানা সংকটের মুখে রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা—এই চার জেলা নিয়ে পরিচালিত হয় বোর্ডটির প্রশাসনিক ও পরীক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শহরের কাঠগোলা এলাকায় ভাড়া নেওয়া দুটি ছয়তলা ভবনে বোর্ডের অফিস পরিচালিত হচ্ছে।
দুটি ভবনের মধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্ব থাকায় প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে একটি ভবনকে পরীক্ষা শাখা এবং অন্যটিকে প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বিভিন্ন কাজে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, ভাড়া করা ভবনে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বোর্ড পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। সীমিত জায়গার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাদাগাদি করে কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ও অনেক ছোট। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বোর্ডের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
নিজস্ব অবকাঠামোর অভাবে প্রযুক্তিগত সমস্যাও তৈরি হয়েছে। বোর্ডের নিজস্ব সার্ভার স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করতে যশোর শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সার্ভারের সহায়তা নিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিজস্ব সার্ভার চালু করা গেলে ফলাফল ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা বোর্ড একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রথমদিকে সরকারের পরিকল্পনা ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে নতুন আধুনিক বিভাগীয় নগর গড়ে তুলে সেখানে শিক্ষা বোর্ডের স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে দীর্ঘদিনেও সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বোর্ড নিজস্ব উদ্যোগে জমি কিনে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
এ লক্ষ্যে নগরের রহমতপুর এলাকায় জমি কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি পাটগুদাম এলাকায় পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিত্যক্ত সরকারি জমি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিভাগীয় নগর গড়তে প্রথমে প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও স্থানীয়দের আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে প্রায় ৯৫০ একর জমি অধিগ্রহণের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে থাকলেও নিচু ভূমি ভরাট, সড়ক ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, আধুনিক বিভাগীয় নগরে শিক্ষা বোর্ডের জন্য ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকবে। তবে প্রয়োজন হলে শিক্ষা বোর্ড নিজ উদ্যোগেও স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক