দক্ষিণ লেবাননে হামলার জন্য প্রস্তুত একটি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের দাবি, ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর আগ মুহূর্তেই এটি শনাক্ত করে সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মার্কিন গণমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে জানা যায়, আইডিএফ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের জুয়াইয়া এলাকায় রকেট লঞ্চারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় ছিল এবং হামলার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল বলে দাবি করা হয়।
আইডিএফ আরও জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে রকেট লঞ্চারটি ধ্বংস করা হয়, যাতে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা চালানো সম্ভব না হয়। অভিযানের একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা যায়।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে এ ধরনের সামরিক অভিযান লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। কারণ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকে সীমান্ত উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত এড়ানোর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ের সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এই আলোচনার ফলাফল কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কারণ যেকোনো নতুন সংঘর্ষ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক