রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 15, 2026 ইং
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ঘিরে কক্সবাজারে বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন:

কক্সবাজারে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার আগমনের পর উখিয়া ও টেকনাফের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে আশ্রয়শিবির গড়ে ওঠে। পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ, বন উজাড় এবং ভূমির স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তনের ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে অন্তত দুই ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। গত নয় বছরে পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের আগে একই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে উখিয়ার ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই সেখানে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকেন। পাশাপাশি বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। পর্যটনশিল্প, স্থানীয় কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা থাকলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মাদক পাচার, মানব পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচ্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ অবস্থায় নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা কমিটি গঠন করেছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটিতে সামরিক বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কমিটির লক্ষ্য হচ্ছে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিমানবন্দরে জব্দ টাকার হিসাব মিলল, ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার

বিমানবন্দরে জব্দ টাকার হিসাব মিলল, ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার