ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। ৪৮ দলের এই বৃহৎ আসরের প্রথম লড়াই হওয়ায় ম্যাচটির গুরুত্বও অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে বেশি।
ফুটবল ইতিহাসের এক আকর্ষণীয় পুনরাবৃত্তিও ঘটছে এবার। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল এবং দুই দলের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা হচ্ছে তাদের।
মেক্সিকোর রাজধানীতে অবস্থিত আজতেকা স্টেডিয়াম বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক এই স্টেডিয়াম এবার নতুন ইতিহাস গড়ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো স্টেডিয়াম তিনটি পৃথক আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ম্যাচটিতে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে মেক্সিকো। ঘরের মাঠের সমর্থন, পরিচিত পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরের নেতৃত্বে দলটি উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায়।
মেক্সিকোর শক্তির জায়গা তাদের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগের সমন্বয়। ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনও তাদের বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। দলটির লক্ষ্য থাকবে শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। আফ্রিকার এই দলটি গত কয়েক বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা জানেন, উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো ফল বিশ্বকাপের বাকি পথচলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই তারা স্বাগতিকদের জন্য কঠিন পরীক্ষা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লড়াই দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারির গর্জন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বর্ণিল আয়োজন এবং দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল—সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম রাত হতে যাচ্ছে বিশেষ এক উপলক্ষ।
কসমিক ডেস্ক