চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই নতুন শ্যাম্পু, দামি হেয়ার সিরাম বা বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও ঘন চুলের ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের ভেতর থেকে। চুলের সঠিক বৃদ্ধি ও শক্তি বজায় রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। এসব পুষ্টির ঘাটতি বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন আট ধরনের খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো অতিরিক্ত খেলে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
বেশি চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন হতে পারে, যা মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহও বাড়াতে পারে।
২. ডিপ-ফ্রাইড ফাস্ট ফুড
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন, চিপসসহ ভাজাপোড়া খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও ক্যালোরি বেশি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি কম থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে জিঙ্ক, আয়রন ও প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা চুলের জন্য ক্ষতিকর।
৩. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার
ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ এবং রিফাইনড কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে পারে না, ফলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
৪. পারদসমৃদ্ধ কিছু মাছ
মাছ সাধারণভাবে পুষ্টিকর হলেও সোর্ডফিশ, শার্ক এবং কিছু বড় আকারের টুনা মাছে পারদের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এটি চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. অতিরিক্ত ভিটামিন এ
ভিটামিন এ চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট বা ফোর্টিফায়েড খাবারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেশি গ্রহণ করলে চুলের ফলিকল দ্রুত ঝরে পড়ার পর্যায়ে যেতে পারে।
৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং জিঙ্ক ও ফোলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে নতুন চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
৭. খুব কম প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাস
চুলের মূল উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, ডাল বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে শরীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে অগ্রাধিকার দেয় এবং চুলের পুষ্টি কমে যায়, ফলে চুল ঝরতে শুরু করতে পারে।
৮. রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট
সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, কেক বা চিনিযুক্ত সিরিয়াল দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত ও নিয়মিত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত মাত্রায় খাওয়া উচিত। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আয়রন ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং চুল পড়ার ঝুঁকিও কমে।
দ্রষ্টব্য: চুল পড়ার কারণ শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়। জিনগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, কিছু ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থাও চুল ঝরার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক চুল পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কসমিক ডেস্ক