মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যদি ইরান তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ তিনি আগেই দিয়ে রেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার ভাষায়, যদি তার সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটে, তাহলে ইরানের ওপর এমন মাত্রার বোমা হামলা চালানো হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো হত্যাপরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েল মার্কিন প্রশাসনকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সতর্কবার্তাটি একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন কোনো তথ্য দেয়নি এবং তিনি অনেক দিন ধরেই এমন ঝুঁকির কথা জানেন।
এর আগে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনেও ট্রাম্প নিজের নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের তালিকায় তিনি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু এবং ভবিষ্যতে তার জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেন।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কারণে সম্প্রতি ট্রাম্পের সফরেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার সময় তার ব্যবহৃত বিমান পরিবর্তন করা হয়। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের হত্যাচেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক