টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়।
বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকেই জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, বাঁশবাড়ি কলোনি, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের রাতভর পানি সেচে কাটাতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার মুখোমুখি হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ।
সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে অল্প সময়ের ভারি বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
হেলথ অফিসারের গলির বাসিন্দা হামিদা আক্তার জানান, ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। চরপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে বলেও তিনি জানান।
বাঁশবাড়ি কলোনির ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ জানায়, ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। রাতভর পরিবারের সবাই মিলে ঘরের পানি সরানোর কাজ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে রাতভর আতঙ্কে থাকতে হয়েছে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার বলেন, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ স্থান থেকে দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক