টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় রাঙামাটির কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় কৃষি ও খামার খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, গত নয় দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১০টি উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, শাক-সবজি, আদা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও ফসলসহ জমি ডুবে গেছে, আবার কোথাও বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষি খাতেই প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা।
বন্যার প্রভাব পড়েছে প্রাণিসম্পদ খাতেও। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থলী উপজেলায় দুটি খামারের আটটি গরু মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪২১ হেক্টর চারণভূমি নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিন শতাধিক খামারি এ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কৃষি ও খামারনির্ভর মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার পরিবার এই দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যার কারণে কিছু মাছ ছড়িয়ে গেলেও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। রাঙামাটির অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল এবং বর্তমানে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আগে ছাড়া পোনাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসন, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং পশুখাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক