অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির পর প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির পর প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 6, 2026 ইং
অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির পর প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছবির ক্যাপশন:

China প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ডামি ওয়ারহেড বহনকারী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে। এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় AustraliaFiji নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ঘটনাটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বেইজিং জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাদের বার্ষিক সামরিক কর্মসূচির নিয়মিত অংশ এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে পরিচালিত হয়নি। তবে এই পদক্ষেপে অস্ট্রেলিয়া, Japan এবং New Zealand-সহ একাধিক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা মনে করেন না যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সরাসরি অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির প্রতিক্রিয়া। তবুও তাদের মতে, এ ধরনের সামরিক কার্যক্রম ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Richard Marles জানান, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যানবেরাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া উদ্বিগ্ন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড, জাপান, Papua New Guinea-সহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে সমুদ্রভিত্তিক সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কেও আগাম অবহিত করেছে।

Winston Peters ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে "অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক" বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে জাপান জানায়, উৎক্ষেপণের প্রায় ৯০ মিনিট আগে তারা বিষয়টি জানতে পারে এবং চীনকে এই পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Mao Ning বলেন, দুই বছর পর পরিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং পেশাদারভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু দেশ যেন এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা না করে।

এদিকে ফিজির রাজধানী Suva-তে অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি আনুষ্ঠানিকভাবে "Ocean of Peace Alliance" নামে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি ফিজির প্রথম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোট এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ এ ধরনের চুক্তি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড এবং পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করেছে ক্যানবেরা।

Anthony Albanese জানান, এই চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছরে ফিজিতে আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে অস্ট্রেলিয়া। তিনি এই চুক্তিকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে Sitiveni Rabuka বলেন, নতুন এই নিরাপত্তা চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং অস্ট্রেলিয়া-ফিজির নতুন নিরাপত্তা জোট—দুটি ঘটনাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা ইস্যুকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পরকালে ৭ শ্রেণীর মানুষ বঞ্চিত হবে আল্লাহর দৃষ্টি থেকে

পরকালে ৭ শ্রেণীর মানুষ বঞ্চিত হবে আল্লাহর দৃষ্টি থেকে