ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরে মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তামিম মিয়ার (১১) মরদেহ একদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী নিশাই সরকার পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তামিম ওই এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. রনি মিয়ার একমাত্র সন্তান এবং গফরগাঁও ইসলামিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে তামিম মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে তার সহপাঠী ও এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে নিশাই সরকার মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসল শেষে অন্য শিশুরা বাড়ি ফিরে গেলেও তামিম আর ফিরে আসেনি।
দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানকে না দেখে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা পুকুর পাড়ে এসে তামিমের জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর শুরু হয় কান্না আর আহাজারি, এবং পুকুরজুড়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় প্রথমদিন কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে মঙ্গলবার সকালে পুকুরের ঘাটের কাছে তামিমের মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিহত তামিমের মা শিল্পী আক্তার ছেলের জুতো বুকে জড়িয়ে বিলাপ করতে থাকেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলে ১০ টাকা নিয়ে বের হওয়ার সময় বলেছিল, গোসল করে এসে সে মায়ের রান্না করা ভাত খাবে। কিন্তু সেই সন্তান আর ফিরে আসেনি।
তার এই কান্নায় উপস্থিত সবাই শোকাহত হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের চোখেও নামে অশ্রু।
ঘটনার বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ধরনের দুর্ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিশেষ করে পুকুর ও জলাশয়ের পাশে শিশুদের খেলাধুলা ও গোসলের সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কসমিক ডেস্ক