কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো বিপ্লব হবে না—রেজাউল করিম রনি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো বিপ্লব হবে না—রেজাউল করিম রনি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 28, 2026 ইং
কিয়ামতের আগ পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো বিপ্লব হবে না—রেজাউল করিম রনি ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কিয়ামতের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান হবে না।’

আলোচনায় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়ার অন্যতম কারণ জনগণের আস্থার সংকট। তার ভাষায়, ‘ন্যাশনাল মেমোরিতে এই দলটাকে মানুষ ট্রাস্ট করে না।’ অর্থাৎ, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনগণের স্মৃতিতে দলটি এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যার কারণে তাদের নেতৃত্বে বৃহৎ গণআন্দোলন বা বিপ্লবের সম্ভাবনা তিনি দেখেন না।

রেজাউল করিম রনি তার বক্তব্যে জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, সংসদে দলের পক্ষ থেকে সততা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই অবস্থানের সঙ্গে কিছু কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতি দেখা গেছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো ধরনের প্লট বা অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বলা হলেও পরে তাদের এক সহযোগী সংসদ সদস্যের মাধ্যমে গাড়ি চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া পৌরসভা পরিষদে দলীয় প্রতিনিধিদের জন্য কক্ষ বরাদ্দ এবং অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। তার মতে, এসব ঘটনা রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।

টক শোতে রেজাউল করিম রনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন, একইভাবে গত ১৮ মাসে জামায়াত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে তার অভিযোগ।

তার ভাষ্যমতে, নির্বাচন চাওয়াকে ‘জুলাইবিরোধী’ বা ‘গাদ্দার’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রবণতা রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

রেজাউল করিম রনি আরও বলেন, নির্বাচনবিহীন ক্ষমতার কাঠামো বজায় রাখার ক্ষেত্রেও জামায়াত বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে জনগণ সেই প্রচেষ্টা সফল হতে দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অতিরিক্ত সাধু সাজার প্রবণতা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত থাকে। তাই যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রক্ষা করা সম্ভব নয়, সেগুলো না দেওয়াই রাজনৈতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রেজাউল করিম রনির এই মন্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও তার বক্তব্য সম্পূর্ণই একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও মতামত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলগুলোর জনসম্পৃক্ততা এবং জনগণের আস্থার প্রশ্ন ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের টেলিভিশন আলোচনা সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্ষমতা নয়, সেবাই রাজনীতির আসল অঙ্গীকার: ইফতারে তথ্যমন্ত্রীর

ক্ষমতা নয়, সেবাই রাজনীতির আসল অঙ্গীকার: ইফতারে তথ্যমন্ত্রীর