প্রাথমিকের নতুন শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে রোববার? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রাথমিকের নতুন শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে রোববার?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
প্রাথমিকের নতুন শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে রোববার? ছবির ক্যাপশন: প্রাথমিকের ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের পদায়ন ও যোগদান নিয়ে রোববার গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে পারে। নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর তাদের পদায়ন ও যোগদান প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আগামী রোববার (২৮ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। সভায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এবং এসব বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।

২৪ জুন জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে জাতীয় কমিটির প্রথম সভা ২৮ জুন বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২২ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও তদারকির জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রোববারের সভাটি সেই কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

তবে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানিয়েছেন, সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে। তবে ওই দিনই সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদান বা পদায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়। লিখিত, মৌখিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এখন পর্যন্ত তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেননি।

নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা গ্রহণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়গুলোকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব অভিযোগের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম কয়েক ধাপে পর্যালোচনা করা হয়, যার ফলে পদায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে রাজধানীতে তারা আন্দোলনও করেন এবং দ্রুত যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। পরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর তাদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এখন জাতীয় কমিটির প্রথম সভাকে কেন্দ্র করে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। যদিও সভা থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নেই, তবুও পদায়ন ও যোগদান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বরগুনায় রাতেই ফলাফলপত্রে সইয়ের অভিযোগ

বরগুনায় রাতেই ফলাফলপত্রে সইয়ের অভিযোগ