চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ সময়ে এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৮ শতাংশ, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে জুলাই-মে সময়ের হিসাবে সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৬৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়নের হার এবং ব্যয়ের পরিমাণ—উভয় দিক থেকেই এ বছরের অগ্রগতি গত কয়েক অর্থবছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
আইএমইডির পূর্ববর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণত জুলাই-মে সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকে। এবার সেই হার ৫০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমে ধীরগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রেও বড় বৈষম্য দেখা গেছে। সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১১ মাসে এক টাকাও ব্যয় করা হয়নি। এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বরাদ্দের ২৫ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতার ঘাটতি, ঠিকাদারদের ধীরগতির কাজ, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজস্ব ঘাটতির কারণে অর্থ ছাড়ে সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের কারণে উন্নয়ন ব্যয় কম হয়েছে। এছাড়া নকশা পরিবর্তন, ক্রয়প্রক্রিয়ার জটিলতা, দুর্বল তদারকি, নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণও এডিপির অগ্রগতিকে প্রভাবিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা, অর্থায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক