রাজধানীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই কাঁচপুর বাস টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় নির্মাণাধীন বাস টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজট কমানোর জন্য সরকার সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কিছু কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কেরানীগঞ্জ এবং কাঁচপুর এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ঢাকার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার বাসের চাপ কমবে এবং যানবাহনের চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল নির্ধারিত উদ্দেশ্যের পরিবর্তে ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কাজ করছে এবং পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৪৮ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচপুর বাস টার্মিনাল চালু হলে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়া দূরপাল্লার পরিবহনের চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, যানজট হ্রাস এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক