চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে আমদানির তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এখনও কম। এ ব্যবধান কমাতে এবং চীনের বৃহৎ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ আরও বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় হোটেল দাইওইউতাইয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়ানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে চীনের বাজারে বাংলাদেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। সেই সুবিধাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রপ্তানি সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, ফল, সবজি, মৎস্যপণ্য এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের পণ্যও ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মাহদী আমিন জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের একটি চালান চীনে রপ্তানির বিষয় নিশ্চিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি), পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চীনের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি চীনা ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহদী আমিনের মতে, দুই দেশের মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করতে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুসংহত করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
কসমিক ডেস্ক