২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি বড় বাণিজ্য অংশীদার দেশের মধ্যেই বেশি কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর বাংলাদেশের কাঠামোগত নির্ভরশীলতার কারণে এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে চীনের সঙ্গে। দেশটির সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের উচ্চ আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে তুলা, রাসায়নিক দ্রব্য, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বিপুল আমদানি ঘাটতি বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া, ব্রাজিল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দেশীয় শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হতে পারে
কসমিক ডেস্ক