কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পাঁচ যুবক। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার পর তারা কোনো দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। তীব্র রোদ, বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট নয় বাংলাদেশিকে দেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন।
এর মধ্যে মানবিক বিবেচনায় একই পরিবারের চার সদস্যকে ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার এবং দুই সন্তানকে গত বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন পাঁচ যুবক। গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থান করছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সজিব হোসেন (২৫) ও হিমেল মিয়া (১৮)। অন্যদিকে ভুন্দুরচর সীমান্তে রয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুন্দুরচরের তিন যুবক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পরবর্তীতে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং গত ১৪ জুন ভোরে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সীমান্তে বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে বাধ্য হন।
বর্তমানে তারা টানা আট দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমে তাদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। মানবিক কারণে স্থানীয়রা খাবার ও পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদুল হক ও আলম মিয়া জানান, সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা যুবকরা প্রতিদিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। তারা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, পাঁচ যুবক এখনো নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান চেয়েছেন, যাতে আটকে পড়া যুবকরা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে আসতে পারেন।
কসমিক ডেস্ক