কক্সবাজারের পার্বত্য উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতার চেষ্টাকালে ৫টি স্থলমাইনসহ বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে টারগুপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় টারগুপাড়া সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন শূন্য লাইনের কাছাকাছি ছায়াপাড়ার ৫৩ ও ৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় এসব সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
অভিযানে বিজিবি সদস্যরা ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক এবং সিভিল পোশাক উদ্ধার করেন।
বিজিবি জানায়, সন্দেহভাজন ৪-৫ জন ব্যক্তি ওই এলাকায় ব্যাগ নিয়ে চলাচল করছিল। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে এসব বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ (EOD) টিম মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় চলছে বলে জানায় বিজিবি।
একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) বাইশফাঁড়ি বিওপির টহল দল পৃথক আরেকটি অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৭/২ থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত অবস্থায় দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল দাহ্য পাউডার, মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), নাইলন কাপড় ও দাহ্য তরল পদার্থ। এগুলো পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
১১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়েজুল কবির বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক