মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়নি। এ কারণে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে সহায়তা না-ও করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো জোটের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তবে যখন ছোটখাটো কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তখন অনেক মিত্র দেশ সহায়তায় অনাগ্রহ দেখায়।
তিনি বলেন, “আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছি। কিন্তু যখন আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তখন ন্যাটো মিত্ররা সহায়তা করতে চায় না।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এ ধরনের আচরণ বোকামি এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের অবস্থান নিতে পারে।
তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা ব্যয় ভাগাভাগি এবং সদস্য দেশগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ন্যাটোর ভেতরে মতপার্থক্য বিদ্যমান।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে এমন বক্তব্য জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও আস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান ইস্যু ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক