লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান চার মাসের সংঘাতে বিরল এক শান্ত দিনের তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। গত রবিবার কোনো ধরনের বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা, যা সংঘাত শুরুর পর প্রথম এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে এই সাময়িক বিরতি স্থানীয়ভাবে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষীরা প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যক্রম শনাক্ত করেননি। সোমবার সকাল পর্যন্তও এই ধরনের সামরিক কার্যক্রম দেখা যায়নি।
তিনি এই পরিস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সহিংসতা হ্রাস পাওয়ার এই প্রবণতা স্থানীয় জনগণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে এবং এটি অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশা জাতিসংঘের রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী United Nations Interim Force in Lebanon (UNIFIL) এখনো সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে সাঁজোয়া যান চলাচল, প্রকৌশল কার্যক্রম এবং লজিস্টিক প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে, যদিও আগের তুলনায় এসব ঘটনার সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউএনআইএফআইএল একদিনে ৪৫১টি গোলাগুলির ঘটনা এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত ২০টি রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ শনাক্ত করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিরতি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ইঙ্গিত নয়, বরং সাময়িক কৌশলগত পরিবর্তন হতে পারে। তাই পরিস্থিতি এখনো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, সহিংসতা কমলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং যেকোনো মুহূর্তে আবার উত্তেজনা বাড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক