প্রশাসক নিয়োগে গণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রশাসক নিয়োগে গণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 18, 2026 ইং
প্রশাসক নিয়োগে গণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের ছবির ক্যাপশন:

সরকার দলীয় লোকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে তাদের খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তার মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনই হওয়া উচিত ছিল।

তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে সরাসরি প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি সিটি করপোরেশন এবং ১৪ মার্চ আরও পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, এসব প্রশাসক মূলত বিএনপির নেতা-কর্মী, যারা জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন পদে বসিয়ে রাজনৈতিকভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ৪২টি জেলায় দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, যদি এসব ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বিশিষ্ট নাগরিক বা যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতেন, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যেত।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, গাইবান্ধা-৩ আসনে বিপুল ভোটে পরাজিত বিএনপির এক জেলা সভাপতিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। আবদুল হালিম বলেন, সম্প্রতি সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে, যার যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়।

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার কারণ সরকার পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি যিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের উপাচার্য করা হয়েছে। এটি দলীয়করণের একটি উদাহরণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের গভর্নর করা হলেও এবার একজন ব্যবসায়ীকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের অগ্রাধিকার ও দাবি তুলে ধরতে থাকবে। সরকার যদি বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে চলে, তাহলে তা দেশের জন্য ভালো হবে।

তবে তা না হলে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংসদ উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এ সময় ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।

সার্বিকভাবে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ আইনজীবী

বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৩ আইনজীবী