২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে সামগ্রিকভাবে পতন দেখা গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ইইউতে রফতানি হয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কম।
তবে পুরো সময়জুড়ে একরকম চিত্র ছিল না। মে মাসে রফতানি বেড়ে ১.৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেও বছরের সামগ্রিক ধারা এখনো দুর্বল। জানুয়ারি ও জুলাইয়ের মতো কিছু মাসে তুলনামূলক উচ্চ রফতানি হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কমে যায়, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
ইইউর মধ্যে জার্মানি এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। মে মাসে দেশটিতে রফতানি বেড়ে ৪০৯.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও তা আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিচেই রয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য বড় বাজারেও মিশ্র প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইউরোপের বাজারে চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রতিযোগী দেশের আগমন এবং সোর্সিং পরিবর্তনের কারণে চাপ আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত জটিলতা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের নির্ভরতা এখনো অত্যন্ত বেশি, যেখানে মোট রফতানির বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই বাজারে ওঠানামা সরাসরি দেশের রফতানি আয়ে প্রভাব ফেলছে।
মে মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও শিল্প নেতারা মনে করছেন, এখনো নিশ্চিতভাবে পুনরুদ্ধারের ধারা শুরু হয়েছে—এমন বলা সময়ের আগেই হবে।
কসমিক ডেস্ক