চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থায় রমজানের বাজার নিয়ে শঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থায় রমজানের বাজার নিয়ে শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 5, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থায় রমজানের বাজার নিয়ে শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:
ad728

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান কর্মবিরতি ধীরে ধীরে জাতীয় সংকটের রূপ নিচ্ছে। এটি এখন আর শুধু শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আসন্ন রমজানের ভোগ্যপণ্যকে কার্যত জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশল দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিল্পকারখানার কাঁচামাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের প্রবাহে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজান সামনে রেখে বন্দরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য বাজার পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। কন্টেইনার ওঠানামা ও পণ্য খালাস কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় জেটি ও টার্মিনালজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র পণ্যজট। নির্ধারিত সময়ে চালান খালাস করা না যাওয়ায় আমদানিকারকদের বাড়তি স্টোরেজ ও ডেমারেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোর্ট পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে তা ৬০টির নিচে থাকে। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে খেজুর, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো রমজানের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এসব পণ্য বাজারে না পৌঁছালে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সংকটের সূত্রপাত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া আট ঘণ্টার কর্মবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থবিরোধী। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

গত সাত দিনে বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজারে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল জানান, একটি বড় জাহাজ একদিন নোঙর করে থাকলেই গড়ে ২০ হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। বর্তমানে জাহাজগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যার খেসারত শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই দিতে হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মবিরতি শুরুর পর পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা শতকোটি টাকার ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি অপারেশন সচল রাখতে নিবন্ধিত প্রায় সাত হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়মিত বুকিং দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মবিরতির কারণে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এদিকে যে চুক্তিকে ঘিরে এত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি এখনো স্বাক্ষর হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেশকে অন্ধকারে ঠেলতে চক্রান্তকারীরা সক্রিয়: ফখরুল

দেশকে অন্ধকারে ঠেলতে চক্রান্তকারীরা সক্রিয়: ফখরুল