ধারাবাহিক বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
বন্যার সম্ভাব্য ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী অনেক নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমি ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের একাধিক গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়ে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি আরও বাড়লে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হতে পারে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তা নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীতে এখনো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও তিস্তাপাড়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক