খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংক খাত, ইতিহাসে প্রথমবার ঋণাত্মক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংক খাত, ইতিহাসে প্রথমবার ঋণাত্মক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 21, 2026 ইং
খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংক খাত, ইতিহাসে প্রথমবার ঋণাত্মক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ছবির ক্যাপশন:

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে মন্থর গতি, খেলাপি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি এবং সুদ আয়ের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যাংকগুলোর মূল আয়ের অন্যতম সূচক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন (এনআইএম) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই সূচক ঋণাত্মক অবস্থানে পৌঁছেছে।

সাধারণভাবে ব্যাংকগুলো আমানত গ্রহণ করে এবং সেই অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে সুদ আয় করে থাকে। ঋণ থেকে অর্জিত সুদ এবং আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদের পার্থক্যই নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সূচক যত বেশি থাকে, ব্যাংকের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম তত বেশি লাভজনক বলে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবধান সংকুচিত হয়ে নেতিবাচক অবস্থায় চলে যাওয়ায় খাতটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ছিল ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৫ সালে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর সুদ আয় কমেছে, অথচ আমানতের সুদ ও অন্যান্য সুদ-সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ বর্তমানে খেলাপি ঋণে আটকে রয়েছে। এসব ঋণ থেকে কোনো আয় না এলেও আমানতকারীদের সুদ পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে এবং মুনাফা অর্জনের সুযোগ কমে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতির কারণে নতুন ঋণের চাহিদাও কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা থাকায় অনেক উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অন্যদিকে ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও শ্লথ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার আওতায় কিছু সংকটাপন্ন ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদ আদায় স্থগিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে মূল আয়ের উৎস আরও সংকুচিত হয়েছে।

ব্যাংক খাতের অন্যান্য আর্থিক সূচকেও দুর্বলতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। সম্পদের গুণগত মানের অবনতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ আদায়ে চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক ব্যাংকের লাভজনকতা কমে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারী, আমানতকারী এবং সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সুশাসন জোরদার এবং উৎপাদনমুখী খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতিনির্ধারক ও ব্যাংকগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়োপযোগী সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা, মূলধন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার