যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে শহরের বহু এলাকা পানির নিচে চলে যায় এবং সড়কে সৃষ্টি হয় মারাত্মক জলাবদ্ধতা।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা তা সামলাতে পারেনি। ফলে অনেক রাস্তা দ্রুতই নদীর মতো অবস্থায় রূপ নেয়। যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে এবং ডালাস ফায়ার-রেসকিউ বিভাগকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে কারণ এই শহরটি আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের অন্যতম ভেন্যু। আগামী সোমবার এখানে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনার এই ম্যাচকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে।
তবে ম্যাচের ঠিক দুই দিন আগে এমন আবহাওয়া বিপর্যয় নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও আর্লিংটনের স্টেডিয়ামটিতে স্বয়ংক্রিয় ছাদ ব্যবস্থা রয়েছে, তাই মাঠের ভেতরে পানি জমার ঝুঁকি নেই, কিন্তু বাইরের পরিস্থিতি বেশ জটিল।
আবহাওয়া দপ্তর ডালাস এলাকায় “ক্রিটিক্যাল ওয়েদার অ্যালার্ট” জারি করেছে। সাধারণ জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে এড়াতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখনো অনেক স্থানে পানিতে আটকে পড়া যানবাহন উদ্ধার কাজ চলছে।
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। ফ্লাইট বিলম্ব এবং কিছু ক্ষেত্রে সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে খেলোয়াড় ও দর্শকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা না এলেও লজিস্টিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম আবহাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। হঠাৎ ভারি বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক জনজীবন এবং বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে কারণ স্টেডিয়ামের প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে পুরো পরিস্থিতি আবহাওয়ার উন্নতির ওপর নির্ভর করছে।
বর্তমানে ডালাস শহরজুড়ে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক