চীন সফরে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চীন সফরে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 20, 2026 ইং
চীন সফরে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা ছবির ক্যাপশন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা করছে বাংলাদেশ। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU), চুক্তি এবং অন্যান্য সহযোগিতা নথি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আগ্রহী।

পররাষ্ট্র সচিবের তথ্যমতে, চীন সফরে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক, ২টি চুক্তি, ১টি অ্যাকশন প্ল্যান এবং ১টি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সফরের অংশ হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প উন্নয়ন, কৃষি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী দেশ হওয়ায় এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সফরের সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে এবং মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে অভিবাসন ও কর্মসংস্থান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো আসিয়ান (ASEAN)-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সফরের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আরও কিছু দ্বিপাক্ষিক দলিল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই নীতির ধারাবাহিকতায় আমরা চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। সফরকালে দুই দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করতে সক্ষম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জরিপে রাজনৈতিক পছন্দে বড় পরিবর্তন, আ.লীগ সমর্থকদের বড় অংশ বি

জরিপে রাজনৈতিক পছন্দে বড় পরিবর্তন, আ.লীগ সমর্থকদের বড় অংশ বি