২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহনে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রতি ৯৮ হাজার টাকা নেট বিমান ভাড়ার প্রস্তাব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯৮ হাজার টাকার নেট ভাড়ার মধ্যে ট্যাক্স, অন্যান্য সরকারি চার্জ এবং ট্রাভেল এজেন্সির কমিশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। ফলে চূড়ান্ত টিকিট মূল্য এসব ব্যয় যুক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত হবে।
ইউএস-বাংলার দাবি, তাদের প্রস্তাব কার্যকর হলে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। গত হজ মৌসুমে জনপ্রতি বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। সেই তুলনায় নতুন প্রস্তাবিত ভাড়া প্রায় ৫৬ হাজার ৮৩০ টাকা কম, যা হজের সার্বিক ব্যয় কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস ফ্লাইট পরিচালনা করে। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী বছরের হজের জন্য জনপ্রতি ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০৬ টাকা বিমান ভাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখনো সরকার চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণ করেনি।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হজের বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ইউএস-বাংলার নতুন প্রস্তাবও সংশ্লিষ্ট সভায় পর্যালোচনা করা হবে।
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে বিকেলে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ইউএস-বাংলার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তার মতে, বিমান ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হলে তা হজযাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হবে এবং ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অনুমোদন পেলে ইউএস-বাংলা সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য পবিত্র হজ পালনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা।
কসমিক ডেস্ক