যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চলমান বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বাধা ও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে দলটি—এমনটাই দাবি করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন করে আরেকটি জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ে টিম মেলি। ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্প করার জন্য যে পরিকল্পনা ইরান করেছিল, তা অনুমোদন পায়নি আয়োজক দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি স্থাপন করে প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচ শেষে বিশ্রাম নিয়েও দেশে ফেরার কথা ছিল খেলোয়াড়দের। তবে তাদের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ফেডারেশনের অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন শর্ত অনুযায়ী ইরান দলকে ম্যাচের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত শহর ত্যাগ করতে হবে। এই নিয়মকে “অস্বাভাবিক ও চাপ সৃষ্টি করা সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
তাদের মতে, এমন শর্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য সমতার নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে, টানা ম্যাচ ও ভ্রমণের ক্লান্তির মধ্যে এই ধরনের বিধিনিষেধ দলটির প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আরও জানান, এই বিধিনিষেধের কারণে কোচিং স্টাফদের পূর্বনির্ধারিত রণকৌশল বাস্তবায়নেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, অনুশীলন এবং ম্যাচ প্রস্তুতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এই পরিস্থিতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেডারেশন আশা করছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশগ্রহণকারী যেকোনো দলের জন্য অগ্রহণযোগ্য। তারা মনে করে, এই ধরনের আচরণ প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ণ করছে।
অন্যদিকে, আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে ইরানের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক সময় ক্রীড়ার পরিবেশেও প্রভাব ফেলে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
এদিকে ইরান দলের খেলোয়াড়রা মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও বাইরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফুটবল বিশ্বে।
কসমিক ডেস্ক