যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিন এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা সামা টিভির বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সময়ের সব ধরনের ব্যয় ইরান সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ধাপে ধাপে মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে এই জলপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
নতুন সিদ্ধান্তকে ওই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক সব বাণিজ্যিক জাহাজকে আগে “পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ”-এর কাছে আবেদন করতে হবে।
অনুমতি পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়সূচি ও রুট অনুসরণ করে জাহাজ চলাচল করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌযান চলাচলের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সংঘাত-পরবর্তী সময়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক