শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার বিচার দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার বিচার দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 7, 2026 ইং
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার বিচার দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের ছবির ক্যাপশন:

দেশের স্বাস্থ্য খাতে নীতিগত ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী নামের একটি ছাত্র সংগঠনের নেত্রী ইসরাত জাহান ইমু।

বুধবার (৬ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এই বিক্ষোভে তিনি বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতার ফল।

ইমুর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে দেড় হাজারেরও বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং এর মধ্যে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, একসময় যেসব রোগ প্রায় নির্মূলের পথে ছিল—যেমন হাম, রুবেলা ও পোলিও—সেগুলো আবার দেশে ফিরে এসেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল, তা বর্তমানে পিছিয়ে যাচ্ছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি দেশের অগ্রগতির প্রধান সূচক হলো শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সেই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, এই পরিস্থিতির জন্য নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা দায়ী। তার মতে, টিকা সরবরাহ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

ইমু অভিযোগ করেন, দেশে ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রচলিত টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে টিকা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে টিকা আসতে বিলম্ব হয় বলে তিনি দাবি করেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্ব সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।

বিক্ষোভে তিনি আরও দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের “থ্রি জিরো” নীতির সঙ্গে বাস্তবে আরও একটি “ফোর জিরো” যুক্ত হয়েছে, যা তার ভাষায় প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাণহানির প্রতীক।

এছাড়া তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যর্থতার কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর জন্য তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে জবাবদিহিতা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতা ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতা ধারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর