এমপিও বাঁচাতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এমপিও বাঁচাতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 8, 2026 ইং
এমপিও বাঁচাতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এমপিও সুবিধা বহাল রাখতে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অন্য বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, মফস্বল এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ন্যূনতম ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ এবং অন্তত ৫৫ শতাংশ পাস নিশ্চিত করতে হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় গত কয়েক বছর ধরে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে আসছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টির পাসের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশে। এছাড়া চলতি ২০২৫ সালের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাস করেছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে এমপিও সুবিধা বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র এনে চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ফরম পূরণ ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৮ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপত্র দেওয়ার সময়ও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরীক্ষার্থী মো. নাইম বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করার পর তাদের চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করতে বাধ্য করা হয় এবং এজন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে ফেল করলেও তারা ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছে। অথচ অন্যদের বিকল্প বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কামাল আজাদ জানান, টেস্ট পরীক্ষায় ২০ জন শিক্ষার্থী ফেল করায় তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি। পরে তাদের মধ্যে ১৫ জন অন্য বিদ্যালয়ে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যায়।

অভিযুক্ত চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বোর্ড ফিসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর জন্য ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. মুজিবুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মোহাম্মদপুরে হাঁটার সময় ছিনতাইয়ের শিকার দুদক মহাপরিচালক

মোহাম্মদপুরে হাঁটার সময় ছিনতাইয়ের শিকার দুদক মহাপরিচালক