মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার খবর হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশ-এর জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—সংকটের তুলনায় আতঙ্কই এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আমদানি কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘাটতির তথ্য মেলেনি। তবুও রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা শহরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে যানবাহন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও মানুষের মধ্যে আতঙ্কই হঠাৎ করে চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে ‘কৃত্রিম চাপ’, যেখানে সরবরাহের ঘাটতির চেয়ে মানুষের অতিরিক্ত মজুত প্রবণতাই বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে এবং চলতি মাসেই আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি আমদানি হওয়ার কথা। অকটেন ও পেট্রোলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হলেও লাইনের দৈর্ঘ্য কমছে না। ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত একটি বড় ফিলিং স্টেশনে কয়েকশ গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, তারা সংকটের আশঙ্কায় আগেভাগেই অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন।
অন্যদিকে মহাখালী এলাকার কিছু পাম্পে অকটেনের সাময়িক ঘাটতি দেখা গেছে, যদিও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রতিদিন নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর-এ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রমও চলছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে একাধিক জাহাজে জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকেও সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে জরুরি হলো গুজব প্রতিরোধ এবং অপ্রয়োজনীয় মজুত বন্ধ করা। কারণ, বাস্তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
কসমিক ডেস্ক