আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-২ সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা ও উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। যদিও এ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তবে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা—মূল লড়াইটি সীমাবদ্ধ থাকবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমির, সহকারী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন।
সর্বশেষ আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে পাবনা-২ আসনের ভৌগোলিক কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী পুরো সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে পাবনা-২ সংসদীয় আসন (সুজানগর–বেড়া)। এর আগে এ আসনে সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিবর্তনের ফলে নির্বাচনী সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে করে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাবনা-২ আসন থেকে ছয়বার আওয়ামী লীগ, চারবার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখান থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যকে কখনো বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়নি। এ কারণে অনেকের কাছে আসনটি ‘ক্ষমতার চাবিকাঠি’ হিসেবেও পরিচিত।
বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এলাকায় পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। বেড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় তাকে এগিয়ে রাখছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বেড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন বলেন, হাবিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন এবং তিনি একজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত প্রার্থী কে এম হেসাব উদ্দিনকে ঘিরে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তপশিল ঘোষণার পর থেকেই তারা উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও দলবদ্ধভাবে ভোট প্রার্থনার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জামায়াতের জন্য ইতিবাচক বলে তারা মনে করছেন। তার ভাষায়, বেড়া ও সুজানগরের মানুষ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, আর সেই বিবেচনায় ভোটাররা অধ্যাপক হেসাব উদ্দিনের দিকেই ঝুঁকবেন বলে তারা আশাবাদী।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির রবিউল হাসান রুবেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মওলানা আফজাল হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পাবনা-২ আসনে উত্তেজনা ও কৌতূহল বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে কার হাতে যাবে এ গুরুত্বপূর্ণ আসন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।