রাজধানীর কদমতলী (ঢাকা-৪) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর হাইস্কুল সংলগ্ন মাজেদা গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নারী কর্মীর নাম কাজি মারিয়া ইসলাম। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে বাড়ি বাড়ি গণসংযোগে অংশ নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন কয়েকজন জামায়াতের নারী কর্মী মাজেদা গলির একটি পাঁচতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভোট চাইতে প্রবেশ করেন।
এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, প্রার্থীকে কেউ চেনে না—এমন একজনের জন্য কেন ভোট চাইতে এসেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার মধ্যেই পেছন থেকে এক যুবক কাজি মারিয়া ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
আহত মারিয়া ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কারা এ হামলা করেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নারীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী গণসংযোগের সময় নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কসমিক ডেস্ক