ইসলামের আলোকে আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসলামের আলোকে আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 30, 2026 ইং
ইসলামের আলোকে আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলি ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইসলাম আল্লাহ তাআলার মনোনীত ও পরিপূর্ণ জীবনবিধান। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়—সব স্তরের জন্য ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। মানুষ সামাজিক জীব; সমাজবদ্ধভাবে চলতে গেলে নেতৃত্ব অপরিহার্য। তবে ইসলাম নেতৃত্বকে ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব ও আমানত হিসেবে দেখেছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে সফল নেতৃত্বের ভিত্তি হলো ইমান, সৎকর্ম, সত্যনিষ্ঠা ও ধৈর্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; তবে তারা নয়, যারা ইমান আনে, সৎকর্ম করে, একে অন্যকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর: ১–৩)

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের আদর্শ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর জীবন ছিল সত্যতা, দয়া, মানবপ্রেম ও কল্যাণকামিতায় পূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল এসেছে; তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর জন্য কষ্টকর, তিনি তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু।’ (সুরা তাওবা: ১২৮)

ইসলামি নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নম্রতা। রূঢ়তা ও কঠোরতা মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি যদি রূঢ় স্বভাবের ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে ছড়িয়ে পড়ত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)

নেতাকে প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে কল্যাণকামী হতে হবে। তায়েফবাসীদের নির্যাতনের পরও রাসুল (সা.) তাদের জন্য বদদোয়া না করে হিদায়াতের দোয়া করেছিলেন—যা ইসলামী নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।

পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইসলামি নেতৃত্বের আরেকটি মূলনীতি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর চেয়ে বেশি সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শকারী কাউকে দেখিনি।’ (তিরমিজি)

নেতৃত্বে সহজতা ও ইতিবাচক আচরণ অপরিহার্য। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিমুখ কোরো না।’ (বুখারি)

ইসলাম নেতৃত্বে প্রতারণা ও অবহেলাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি জনগণের দায়িত্ব নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।’ (বুখারি)

কোরআনে নেতৃত্বপ্রাপ্তদের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আমি তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতা দিলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজে বাধা দেবে।’ (সুরা হজ: ৪১)

সবশেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) নেতৃত্বে যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি অধিক যোগ্য থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে নেতা বানায়, সে আল্লাহ, রাসুল ও মুমিনদের সঙ্গে খিয়ানত করে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম)

ইসলামের আলোকে নেতৃত্ব মানে শাসন নয়, বরং সেবা; কর্তৃত্ব নয়, বরং জবাবদিহি। এই নীতির বাস্তবায়নই সমাজে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন ৪ লাখের বেশি

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন ৪ লাখের বেশি