দীর্ঘ দেড় যুগের প্রবাস জীবন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার রাজনৈতিক উপস্থিতি, বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি তার ব্যক্তিগত রুচি ও চিন্তাভাবনাও উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে তুলে ধরা হয়েছে ‘বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তিত সন্তান’ হিসেবে। প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পছন্দ, অভ্যাস ও দীর্ঘ প্রবাসজীবনের কিছু দিকও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের প্রিয় সময় কাটানোর স্থান ছিল রিচমন্ড পার্ক। সেখানে তিনি নিয়মিত হাঁটতেন, একান্তে সময় কাটাতেন এবং ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ক বই পড়তেন। চিন্তা ও পরিকল্পনার জন্য এই সময়গুলো তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টাইম ম্যাগাজিন জানায়, তারেক রহমানের প্রিয় চলচ্চিত্র হলো হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি নিজেই জানিয়েছেন—এই সিনেমাটি তিনি সম্ভবত আটবার দেখেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিনেমাটির সংলাপ ও প্রতীকী বার্তা থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা পান।
সাময়িকীটির ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে একজন তথ্যনির্ভর ও পরিকল্পনাভিত্তিক নীতিনির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তার ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রভাবনার কিছু দিক তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনরুদ্ধারে প্রায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন, ভূমির অবক্ষয় রোধে বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো এবং দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানীর জন্য ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং চাপের মুখে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের একপর্যায়ে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা স্পাইডার-ম্যানের একটি উক্তি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “মহান শক্তির সঙ্গে মহান দায়িত্ব আসে”—এই কথাটিতে তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পনা, প্রতীক ও বার্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক