জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আয় বণ্টন, ব্যাংকিং খাত এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের হাতে অল্প পরিমাণ অর্থ গেলেও তা দ্রুত বাজারে ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন কোটিপতির হাতে অতিরিক্ত অর্থ গেলে সেটি সবসময় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার নাও হতে পারে। অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষের হাতে সামান্য অর্থ পৌঁছালেও তারা তা প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ব্যয় করেন, যা স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ড. রেজা কিবরিয়া আয় বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন দিনমজুরের দৈনিক আয় এবং বাজারে সবচেয়ে কম দামের চালের মূল্যের অনুপাত বিশ্লেষণ করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের সূচকের প্রতি নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য বলেন, শুধুমাত্র বড় শপিং মল বা বিলাসবহুল আবাসন নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তার মতে, শিল্পকারখানা, উৎপাদনমুখী খাত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আমানতের ওপর তুলনামূলক কম সুদ প্রদান এবং ব্যবসায়িক ঋণে উল্লেখযোগ্য হারে সুদ নেওয়ার বিষয়টি ব্যাংকিং ব্যবস্থার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন যে, অতীতের অভিজ্ঞতায় নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তার মতে, বাস্তবতার তুলনায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে অর্থবছরের শেষে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাজেট আলোচনায় দেওয়া এসব বক্তব্যে তিনি মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, সুষম আয় বণ্টন এবং আর্থিক খাতের কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কসমিক ডেস্ক