জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হবিগঞ্জ জেলা কমিটি থেকে একযোগে ১৩ নেতা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। জেলা পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটির এসব নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পদত্যাগের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর দুলাল। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমিও শুনেছি। তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।’ তবে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল হক টিপু ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহিদ মনির। এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগকারীদের তালিকায় আরও রয়েছেন—যুগ্ম সদস্যসচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালাম আহসান, সনজয় দাস; সদস্য মো. হারুন মিয়া, কামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম উদ্দিন, মো. জাহিদ মিয়া, শফিউল আলম খান ও সোফায়েল আহমেদ। দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এসব নেতার একযোগে পদত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এনসিপির স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, পদত্যাগকারীরা তাঁদের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নিয়েছেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়, মতপার্থক্য কিংবা নেতৃত্বসংক্রান্ত জটিলতা থেকেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পদত্যাগকারীদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য এখনো গণমাধ্যমে আসেনি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে এতসংখ্যক নেতার পদত্যাগ জেলা পর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং নতুন করে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক