জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আদর্শিক নয়, নির্বাচনী: এনসিপি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আদর্শিক নয়, নির্বাচনী: এনসিপি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 5, 2026 ইং
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আদর্শিক নয়, নির্বাচনী: এনসিপি ছবির ক্যাপশন:
ad728

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করা হলেও বাংলাদেশ কোনোভাবেই ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত হবে না—এমন আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ সরকার হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য, যেখানে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

ভারতের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দ্য উইক-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির বর্তমান সম্পর্কটি আদর্শিক কোনো একীভূতকরণ নয়; এটি কেবল একটি নির্বাচনী সমঝোতা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক। জামায়াতের সঙ্গে জোটের ফলে যদি কখনো এই আদর্শের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড দেখা যায়, তাহলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে তারা এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না। তিনি জানান, জামায়াত বর্তমানে তাদের পূর্বের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে বলেই এই সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জোট গঠনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে এই সমঝোতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিফলিত হতে পারে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জোটগতভাবে প্রায় ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তারা সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদর্শিক একাকিত্বের পরিবর্তে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলাই সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হয়ে সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে হলে দিল্লিকে তার পুরোনো নীতি পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান দাবি হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। তার মতে, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

নাহিদ ইসলাম বিশ্বাস করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার পর দেশের মানুষ এখন নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, এনসিপি সংসদের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১০–দলীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত অমান্য: সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি প্রার

১০–দলীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত অমান্য: সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি প্রার