খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভারতে যেতে হবে না। তাদের এ দেশেই সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের জামাই আদরে রাখা হবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
কৃষ্ণনন্দী তার বক্তব্যে আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামি কখনো টাকা দিয়ে ভোট কেনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ভোট কেনার উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজির টাকা ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির টাকার বস্তার মুখ খুলে দিয়ে হাট-বাজারে গরু-ছাগল কেনার মতো করে ভোট কেনা হচ্ছে, এটা কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াত কখনো বিকাশ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে না। জামায়াত জনগণের সমর্থন ও নৈতিক রাজনীতির মাধ্যমেই ক্ষমতায় যেতে চায় বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে সুষ্ঠু নির্বাচন, নৈতিক রাজনীতি ও সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা ও অনৈতিক কার্যকলাপ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং জনগণের সমর্থন কামনা করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ভোট কেনার অভিযোগ ঘিরে দেওয়া এই বক্তব্য খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এসব বক্তব্যের বাস্তবায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।
কসমিক ডেস্ক