বরগুনা-২ (বামনা–পাথরঘাটা–বেতাগী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত পৃথিবীর কোনো দেশে ইসলামি দলের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পক্ষে থাকে না। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্ভর করে এগোচ্ছে।
রোববার রাতে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা বিকাশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সুলতান আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধু গত ১৫ বা ১৮ বছর নয়, তার আগের সময়ের নির্বাচনগুলোর বেশির ভাগই ছিল ভাঁওতাবাজি ও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, ‘২–৪টা নির্বাচন ছাড়া বাকি সব হয়েছে লোক দেখানো।’
নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তাঁর ভাষায়, গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা, লাঠিয়াল বাহিনীর দৌরাত্ম্য, ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট বাক্স দখল, মারামারি ও হানাহানির মাধ্যমে দেশে নির্বাচন হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিশ্ব দেখবে যে বাংলাদেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম।
সুলতান আহমেদ আরও দাবি করেন, ‘বহির্বিশ্বও চাচ্ছে এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এ দেশে সরকার কায়েম হোক।’ তিনি বলেন, রাজনীতিসচেতন ও বিচক্ষণ মানুষেরা এই পরিবর্তনের আলামত ইতিমধ্যে বুঝতে পারছেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুলতান আহমেদ বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিমা বিশ্বও একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। তাঁর দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে এই মুহূর্তে জামায়াত ছাড়া সম্ভব না। আমরা এখনো দাবি করি, তাদের সামনে শুধু জামায়াতই আছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। সুলতান আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায় এবং সে কারণেই জামায়াতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বাড়ছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুলতান আহমেদ বলেন, যদি দুর্নীতি দূর করা যায়, তাহলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বই প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াত প্রার্থীর এই বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক