এমপি হওয়ার পর জীবন উপভোগের সুযোগ মেলেনি: মাহমুদা মিতু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এমপি হওয়ার পর জীবন উপভোগের সুযোগ মেলেনি: মাহমুদা মিতু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 29, 2026 ইং
এমপি হওয়ার পর জীবন উপভোগের সুযোগ মেলেনি: মাহমুদা মিতু ছবির ক্যাপশন:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর নিজের জীবন আর আগের মতো উপভোগ করতে পারছেন না। বরং দায়িত্ব ও বাস্তবতার চাপে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

রোববার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক চাপ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরেন।

মাহমুদা মিতু লিখেছেন, একসময় তার জীবন ছিল আনন্দময় ও প্রাণবন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হাস্যরস, আড্ডা ও স্বতঃস্ফূর্ততায় ভরপুর সময় কাটাতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর তার জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই তিনি অন্য এক বাস্তবতায় প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন এমপি হওয়ার মাধ্যমে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তার পূর্বের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে তিনি আরও বেশি অর্থ ও ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করতে পারতেন। তবে তিনি এটিকে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা হিসেবেই দেখছেন।

নিজের পেশাগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তার প্রিয় বিষয় গাইনোকোলজির বই নিয়েও এখন আর আগের মতো সময় কাটানো সম্ভব হয় না। ব্যস্ততা ও দায়িত্বের কারণে সেই ব্যক্তিগত সময়গুলো যেন হারিয়ে গেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই পথ চলতে গিয়ে তিনি যেন নিজের সত্তাকেই হারিয়ে ফেলেছেন। আগে যেখানে তিনি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারতেন, এখন সেখানে অনেক ক্ষেত্রে আপস করতে হয়। নিজের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় দমন করতে হয় বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে এসে তিনি বুঝেছেন, ক্ষমতা সবসময় মানুষকে শক্তিশালী করে না। বরং অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, স্বাভাবিক হাসি এবং নিজের স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিতে হয়। এই বাস্তবতা বাইরের মানুষ সহজে বুঝতে পারে না।

সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, বিশেষ করে অতীতের আন্দোলন বা সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও জানান। তবে সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সুযোগ বা স্বাধীনতা সবসময় থাকে না।

তার পোস্টে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে অনেকেই এর গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের প্রকাশিত কথা ছাড়াও মনের গভীরের অনুভূতিগুলো সৃষ্টিকর্তা ভালোভাবে জানেন এবং সঠিক বিচার তিনিই করবেন।

মাহমুদা মিতুর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার খোলামেলা বক্তব্যকে সাহসী বলে উল্লেখ করছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক জীবনের কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে, একজন সংসদ সদস্যের জীবনের আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও মানসিক চাপের একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে তার এই বক্তব্যে, যা সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতির আরেকটি দিক তুলে ধরেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৭ জন, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল ২২৫৩

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৭ জন, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল ২২৫৩