সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়বিচার, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়বিচার, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 6, 2026 ইং
সীমান্তে ঝুলে থাকা ন্যায়বিচার, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ ছবির ক্যাপশন: ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে কাটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহ—বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে ঘটনাটি।
ad728
বিশ্ব আলোচিত সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ। ২০১১ সালের আজকের এই দিনে ভারতীয় রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-র গুলিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয় নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী এলাকার কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টা কাটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর মৃত দেহ। গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। পরে বিএসএফ এর বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাক্ষান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রীট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে খুনির বিচার হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে নতুন সরকারের নিকট ন্যায় বিচারের আশায় বুক বেধে আছে ফেলানীর পরিবার। 
এঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ এর এ কোর্টে স্বাক্ষী দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ এর বিশেষ কোর্ট। পরে রায় প্রত্যাক্ষান করে পুনঃ বিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূনঃ বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ২ জুলাই এ আদালত পুনরায় আত্মস্বীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ ‘মাসুম’ ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানী শুরু হয়। ২০১৬ এবং ১৭ সালে কয়েক দফা শুনানী পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শুনানী দিন ধার্য হলেও হয়নি শুনানী। পরবর্তিতে আরও কয়েকদফা শুনানীর দিন ধার্য থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্পন্ন হয়নি আজও। 

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সারা বিশ্বে আলোচিত একটি ঘটনা ফেলানী হত্যা, যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তার পরিবারটি সঠিক বিচার পাইনি, আমাদের দাবি নতুন সরকার এসে যেন  ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে। 

ফেলানের বাবা নুর ইসলাম  ও মা জাহানারা বেগম জানান,  বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অবহেলায় মেয়ে হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত তারা।যুগে যুগে সীমান্তে হত্যা বেড়ে চলছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশি নাগরিকদের। তাই দ্রুত ফেলানী হত্যার বিচার হলে বন্ধ হবে এসব হত্যাকান্ড বলছেন এলাকাবাসী। অপরদিকে ফেলানীর মতো আর যেন কারো মায়ের বুক খালী না হয় এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবী তাদের।

কুড়িগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফখরুল ইসলাম জানান, ভারতের সুপ্রিমকোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার রীট তালিকাভূক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। সেটি যত দ্রুত শুনানী হবে ততই মামলাটির অগ্রগতি হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও ফেলানী হত্যার বিচার হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকরাও সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে ফের অবরোধ, অচল তিন মোড়

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে ফের অবরোধ, অচল তিন মোড়