বন্ধের পরিবর্তে বাড়ছে শিশুশ্রম, ঝুঁকিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বন্ধের পরিবর্তে বাড়ছে শিশুশ্রম, ঝুঁকিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
বন্ধের পরিবর্তে বাড়ছে শিশুশ্রম, ঝুঁকিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৩৮ লাখ শিশু শিশুশ্রমে জড়িত। শিশুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবছর ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। তবে বাস্তবতা হলো, বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশুশ্রম কমার বদলে অনেক দেশে এটি আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশেও শিশুশ্রমের চিত্র উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন শিশু (১৭ বছরের কম বয়সী) কোনো না কোনোভাবে কর্মজীবনে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুশ্রমিক রয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭ জন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন।

সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা শুধু শ্রমেই নয়, সামাজিক অবহেলা ও দারিদ্র্যের কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।

সরকার শিশুশ্রম প্রতিরোধে ৪৩ ধরনের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে উপকূলীয় শুঁটকি শিল্পে মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২০ শতাংশই শিশু। পাশাপাশি ধাতু ও ভারী শিল্পখাতেও শিশুদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে অধিকাংশই কিশোর বয়সী ছেলে শিশু।

সরকারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মতে, শিশুর মৌলিক অধিকার—যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ আশ্রয়, পুষ্টিকর খাদ্য ও সুরক্ষা—শিশুশ্রমের কারণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুশ্রম শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নেও বড় বাধা।

অন্যদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো বলছে, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটই শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সন্তানদের আয়কে জীবিকার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে শিশুরা স্কুল ছেড়ে শ্রমজীবনে প্রবেশ করছে।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভাসমান শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব শিশুর একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং চুরি-ছিনতাইসহ ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিছু ভাসমান শিশু বড় অপরাধী চক্রের সহযোগী হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ দিয়ে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার পারিবারিক দারিদ্র্য কমানো, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে শিশুদের পুনর্বাসন ও শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শিশুশ্রম শুধু একটি শ্রম সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কুষ্টিয়া-৩: ঈদের আনন্দে ভোট প্রদান করলেন মুফতি আমির হামজা

কুষ্টিয়া-৩: ঈদের আনন্দে ভোট প্রদান করলেন মুফতি আমির হামজা