টানা পাঁচ মাস রপ্তানি কমায় গভীর সংকটে পোশাকশিল্প The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

টানা পাঁচ মাস রপ্তানি কমায় গভীর সংকটে পোশাকশিল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
টানা পাঁচ মাস রপ্তানি কমায় গভীর সংকটে পোশাকশিল্প ছবির ক্যাপশন:

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে গভীর মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা পাঁচ মাস ধরে এ খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসহ মোট ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে আগের অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি দেশে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ক্রোয়েশিয়ায় আগের অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ মিলিয়ন ডলার, সেখানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ মিলিয়ন ডলারে। রোমানিয়ায় পতনের হার ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, রপ্তানি কমে ১১৩ মিলিয়ন ডলার থেকে দাঁড়িয়েছে ৭৩ মিলিয়নে।

জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধে যেখানে রপ্তানি ছিল ২ হাজার ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে ২ হাজার ১৮৭ মিলিয়ন ডলারে। ইতালিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আয়ারল্যান্ডে কমেছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ডেনমার্কে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং লুক্সেমবার্গে এই হার ২৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।

অন্যান্য ইউরোপীয় বাজারেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সুইডেনে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, ফিনল্যান্ডে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং স্লোভেকিয়ায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ। চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরিতেও সামান্য হলেও রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজারেও রপ্তানি কমেছে, যদিও হার তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধে যেখানে রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৮৪৩ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ মিলিয়নে।

অপ্রচলিত বাজারগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, তুরস্কে ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মেক্সিকোতে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের বাজারেও রপ্তানি নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক মন্দা ও ভোক্তা ব্যয়ের চাপের কারণে সাময়িকভাবে রপ্তানি কমেছে। তবে নতুন বাজার অনুসন্ধান, উদ্ভাবনী পণ্য, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে পারলে এই মন্দা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সরবরাহ চেইনের দক্ষতা, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারলে এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এনসিটি ইস্যুতে টানা তৃতীয় দিনেও অচল চট্টগ্রাম বন্দর

এনসিটি ইস্যুতে টানা তৃতীয় দিনেও অচল চট্টগ্রাম বন্দর