আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলার দুটি আসনের মোট আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাট-২ সংসদীয় আসনে। গত ২ ফেব্রুয়ারি কালাই উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নে বিএনপির এক নেতার বাড়িতে ভোটারদের আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে রান্না করা খিচুড়ি ও রান্নার সামগ্রী জব্দ করে। পরে জব্দ করা খাবার স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
এই ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারীকে দ্বিতীয়বারের মতো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে শোকজপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার। জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে শোকজপ্রাপ্তরা হলেন বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারী, জামায়াত প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম এবং এবি পার্টির প্রার্থী এসএম জাহিদ হোসেন।
তদন্ত কমিটি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শহরের প্রধান সড়কের বিভাজক, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রতীক ও ছবি সংবলিত ফেস্টুন লাগানো। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহারের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেও কেউ কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয়পুরহাট-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান জেলা যুগ্ম জজ জানাতুল রাফিন সুলতানা এবং জয়পুরহাট-২ আসনের কমিটির চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. ফয়সাল আহমেদ এসব শোকজ নোটিশ জারি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ প্রার্থী লিখিত জবাব দিয়ে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাদের সতর্ক করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক থেকে অবৈধভাবে লাগানো ফেস্টুন ও ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক